Thursday, February 22, 2024
HomeNewsPersecution Newsজেগে ওঠো বাঙালি

জেগে ওঠো বাঙালি

১৯০৭ সালের মার্চ মাসঃ কুমিল্লায় হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা সৃষ্টি হয়েছিল এবং তাতে বাঙালি হিন্দুরা আক্রান্ত হয়েছিল। তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। বিবেকানন্দ ও অরবিন্দের লেখনীর দ্বারা উদবুদ্ধ হয়ে বাঙালিরা পুরোদমে নিজেদের মান সম্মান সম্পত্তি রক্ষা করেছিল।

বাঙালি হিন্দুদের হাতে এক গোপন ইস্তেহার ছরিয়ে পড়ে। ১৯০৬ সালে যখন বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদ সভা আয়োজন করা হয়েছিল টাউন হলে তখন ‘সোনার বাংলা’ নামের এক ইস্তেহার সবার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল এটা ছিল তারই পরবর্তী সংস্করণ।

সেই ইস্তেহারের মূল বিষয়বস্তু কী ছিল? ‘যে বাহু কুমিল্লায় তোমার ধন প্রাণ মান রক্ষা করিয়াছে, সেই বাহুবলই তোমায় স্বরাজ্য দিবে।…. বাঙালি, কেন ভয় পাও? কীসের ভয়? প্রত্যেক স্থাণে দলবদ্ধ হও, গুপ্ত সভা করিয়া নিজেদের ও দেশকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করো। যে যে প্রকারে পারো অস্ত্র সঞ্চয় করিয়া রাখো। প্রত্যেকেই ব্যায়ামের দ্বারা শরীরকে উপযোগী করো। …. যে জাতি আমাদের মাতৃদেবীকে হত্যা করিতে চায়, সে আমাদের শত্রু। সেই শত্রুর বিনাশসাধন মহাপুণ্য। ….কী করছো তোমরা?বৃথা ক্রন্দনে কী লাভ? একমাত্র কর্তব্য বুকের রক্তদান। আর নয়! আর আমরা শুনবো না। যারা নিজেদের মানুষ বলে মনে করে, তারা এগিয়ে আসুক। চোখের সামনে ওরা বিবস্ত্রা করেছে আমাদের মাতাকে। তোমাদের চোখ থেকে রক্ত ছুটে আসছে না কেন? ‘

এর কিছু সময় পরেই আরও দুটি ইস্তেহার ছড়িয়ে পড়েছিল। ইংরেজিতে ‘No Compromise’ এবং বাংলায় ‘রাজা কে?’ (Who is our king?) এই প্রকার স্বতঃস্ফূর্ত আহ্বান হল – ‘অসুরের জাত এসে আমাদের মাতার অবমাননা করে যাচ্ছে আর তোমরা চুপ করে দেখছো? তোমাদের তো এখনও শক্তি আছে; অথচ মায়ের মান রাখতে কেন তোমরা গদা তুলে নিলে না হতে? ভ্রাতৃগণ , এসো, একবার বুক চিৎ করে দাঁড়াও, মায়ের মুক্তির জন্য রক্ত দান করো। এসো , আমরা মায়ের যোগ্য সন্তান হয়ে উঠি।’

এর আগে থেকেই প্রমথনাথ মিত্র ও সতীশচন্দ্র বসু লাঠি খেলার সুত্রপাত করেন বাঙালি মননে আগ্রাসন জাগানোর জন্য। প্রমথনাথ মিত্র বলেন, ‘লাঠি বাংলার জাতীয় অস্ত্র।’ ‘যুগান্তর’ পত্রিকায় এইসময় ‘লাঠ‍্যৌষধি’ নামক এক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। প্রমথনাথ মিত্র ‘The Bengalee’ নামক পত্রিকায় বলেন,’The lathi is the National Weapon of Bengal. A Bengalee lathial, properly trained, with his single lathi keep half-a-dozen swords men at bay.’

সেই কথা বাঙালির কান অবধি পৌঁছেছিল। বাঙালি নিজেকে শুধু লাঠিচর্চায় আটকে রাখেনি বরং সে বন্দুক বোমা সমস্ত কিছু নিজের হাতে তুলে নিয়েছিল। ১৯০৮ সালে সে সাম্প্রদায়িক আক্রমণ হয় তাতে হিন্দুরা আক্রান্ত হয়েছিল। বারোয়ারি দুর্গা প্রতিমা বিনষ্ট করা হয়েছিল সেই সময়।

সেই খবর শুনে “আত্মোন্নতি সমিতি”র লোকজন কলকাতা থেকে জামাল্পুরে পাড়ি দেন। বিপিনচন্দ্র গাঙ্গুলি, শ্রীশ ঘোষ, ইন্দ্রনাথ নন্দী হাতাহাতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। বাঘাযতীনের আদর্শে দীক্ষিত কিছু ছেলেও এসেছিল। তারা “Eye for an eye” মন্ত্রে দীক্ষিত ছিল।

দাঁতের বদলে দাঁত ও চোখের বদলে চোখ এই মন্ত্রেই উদবুদ্ধ ছিল তারা। সবাইকে ছাপিয়ে সুধীর সরকার নামক এক বালক নজির সৃষ্টি করে যার সম্বন্ধে সিস্টার নিবেদিতা বলেছিলেন, ‘ একদম স্বামীজীর মতোই’। স্থানীয় নেতারা সকলেই পলায়নরত। ২০০০ জন মুসলমান এক মন্দির ভাঙছে এবং ভিতরে কিছু হিন্দু মহিলারা কাঁদছে। এই সংবাদ যুগান্তরের কার্যালয়ে আসার পর ভূপেন ১৪২ ধারায় রাজদ্রোহের অপরাধে গ্রেফতার হন।

আজ এত বছর পর কুমিল্লায় আবার বাঙালি হিন্দুর ওপর আঘাত আসে। আঘাত আসে তাদের ধর্ম, বিশ্বাসের ওপর। তাই আজ ইতিহাসের পাতা উলটে দেখা খুব আবশ্যিক।

নিজের ধর্ম ও সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে ‘সাম দাম দণ্ড ভেদ’ নীতি প্রয়োগ করতেই হবে। প্রশাসনের মৌন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে নিজেকে এগিয়ে যেতেই হবে। এই শিক্ষাই বঙ্কিমচন্দ্র নিজের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে দিয়ে গেছেন।

১৭ বছরের সুধীর সেই সময় যা করতে পিছপা হয়নি আজকের বাঙালি তা করতে এত দ্বিধা বোধ করছে কেন? অস্ত্রধারী মাতাকে শুধু পুজো করলেই হবে না প্রয়োজনে সেই অস্ত্র নিজের হাতেও তুলে নিতে হবে। প্রত্যেক জাতির স্বাতন্ত্র্য রক্ষার অধিকার UNO কর্তৃক স্বীকৃত। অধিকার কেউ কাউকে দেয়না বরং তা ছিনিয়ে নিতে হয়।

ইহুদি জাতির জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের স্বপ্ন এঁকেছিলেন হার্জিল, তাঁর ” The Jewis State” গ্রন্থে। তাঁকে হাসির খোরাক হতে হয়েছিল বইকি। তার অর্ধ শতক পরে বুকের রক্ত দিয়ে ইহুদিরা হার্জিলের স্বপ্ন সাকার করেছিল। মন্ত্র একটাই , “Rise and Kill First”

৭০ টি জেনোসাইডের আঘাত বুকে বয়ে চলা বাঙালি হিন্দুর বুকের রক্ত আর কবে ফুটে উঠবে? জগৎজননী মহামায়া আজ কৈলাস ধামে প্রত্যাবর্তন করবেন। ঘন্টা নাড়িয়ে পুজো করলেই সব হবে? নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে?

প্রয়োজন পড়লে প্রাণপাত করতে এগিয়ে যেতে হবে না নিজেদের পূর্বপুরুষদের মত? আজ এই ভীরুতা দেখে তারা দুঃখিত, ক্ষুব্ধ। চোখের সামনে নিজেদের মায়ের এই অপমান আর কতদিন সহ্য করা চলে? আমাদের মা বোনেরা আক্রান্ত এবং আমাদের সম্মান ভূলুণ্ঠিত।

‘আপনার মান রাখিতে জননী আপনি কৃপাণ ধরো গো।’ছবিতে সেই অবিস্মরণীয় “সোনার বাংলা”ইস্তেহার।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments