১৫৩৩ সালে চৈতন্য মহাপ্রভুর অন্তর্ধান এক রহস্য, এই ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন বিবরণ ও বিশ্বাস আছে। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে তিনি দেবতা জগন্নাথ বা টোটা গোপীনাথের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন, আবার কেউ কেউ মনে করেন যে তিনি সমুদ্রে ডুবে গিয়েছিলেন অথবা ছদ্মবেশে পুরী থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। কোনও শারীরিক দেহাবশেষ বা চিহ্নিত কবর কখনও পাওয়া যায়নি, যার ফলে তাঁর প্রস্থান অস্পষ্টতার আবরণে রয়ে গেছে।(sri chaitanyadev mystery)
অন্তর্ধানের বিভিন্ন বিবরণ:
দেবতাদের সঙ্গে মিলন: কিছু বিবরণে চৈতন্য মহাপ্রভু পুরীর ভগবান জগন্নাথের মূর্তির সঙ্গে অথবা অন্য দেবতা টোটা গোপীনাথের সঙ্গে মিশে যাওয়ার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
সমুদ্রে ডুবে যাওয়া: একটা বর্ণনায় বলা হয়েছে যে তিনি ঐশ্বরিক আনন্দে সমুদ্রে হেঁটে গিয়ে ডুবে গিয়েছিলেন।
পলায়ন এবং ছদ্মবেশ:অন্য এক বিবরণে দাবি করা হয়েছে যে তিনি সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে পুরী থেকে পালিয়ে এসেছিলেন।
আঘাতের কারণে মৃত্যু:কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে রথযাত্রা উৎসবের সময় পায়ে আঘাত পেয়ে তিনি মারা গেছেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
ভক্তি আন্দোলনের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের প্রতিষ্ঠাতা চৈতন্য মহাপ্রভু ১৪৮৬-১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁর শিক্ষা, জপ ও আনন্দময় নৃত্যের মাধ্যমে কৃষ্ণের প্রতি ভক্তির উপর কেন্দ্রীভূত ছিল।
মুরারি গুপ্ত, কবি কর্ণপুর, বৃন্দাবনদাস ঠাকুর এবং শ্রীলকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী কেউই শ্রীচৈতন্যদেবের অন্তর্ধানের বর্ণনা দেননি।
জীবনীকারদের মধ্যে মহাপ্রভুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং শ্রী নরহরি সরকার ঠাকুরের প্রিয় শিষ্য লোচনদাস “শ্রীশ্রী চৈতন্যমঙ্গল”এ লিখেছেন: “আষাঢ় মাসে, সপ্তমী তিথিতে (রবিবার) বিকেলে গুঞ্জাবাড়িতে (গুন্ডিচা মন্দির) মহাপ্রভু জগন্নাথের গর্ভগৃহে প্রবেশ করেন এবং তাঁকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন এবং তৎক্ষণাৎ দৃষ্টির আড়ালে চলে যান।”
সেই মুহূর্তে শ্রীবাস পণ্ডিত, মুকুন্দ দত্ত, গোবিন্দ, কাশী মিশ্র এবং অন্যান্য ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই প্রভুকে জগন্নাথের মন্দিরে প্রবেশ করতে দেখেন এবং প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে যখন মহাপ্রভু বাইরে আসেননি তখন তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
তখন গুঞ্জাবাড়ির ব্রাহ্মণ পাণ্ডা এসে তাঁকে গর্ভগৃহের দরজা খুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরে পান্ডা তাদের বললেন, “গুজবরীর মধ্যে প্রভুর দর্শন হয়েছে। নিজে দেখেছি গৌর আর জগন্নাথের মিলন , আমি নিশ্চিত”।

সেই সময় উড়িষ্যার রাজা প্রতাপরুদ্র পুরীর নীলাচলে ছিলেন। মহাপ্রভুর ভক্তরা শোকে বিলাপ করছিলেন। তিনি কান্না শুনেছিলেন এবং তাঁর পরিবারের সকলে জ্ঞান হারিয়েছিলেন। রথযাত্রার সময় ভগবান জগন্নাথ গুন্ডিচা মন্দিরে অবস্থান করেন। শ্রীবাস ও অন্য গৌড়ীয় ভক্তরা প্রতি বছর রথযাত্রায় চৈতন্যদেবকে দেখতে পুরী যেতেন।
মহাপ্রভুর সমসাময়িক ও শিষ্য অচ্যুতানন্দ ওড়িয়ায় “শূন্য সংহিতা”য় লিখেছিলেন শ্রীগৌরচন্দ্র অন্যান্য ভক্তদের সঙ্গে জগন্নাথের গর্ভগৃহে ঢোকেন। তিনি নৃত্যরত অবস্থায় “রাধে রাধে” গাইতে গাইতে বিদ্যুৎচমকের মতো জগন্নাথের মধ্যে অদৃশ্য হন।
ওড়িয়া লেখক শ্রী দিবাকর দাস লিখেছেন:প্রভু জগন্নাথের দেবতায় মিশে গিয়ে অন্তর্ধান করেছিলেন।
“শ্রীচৈতন্য উপদান”-এর লেখক ডঃ বিমান বিহারী মজুমদার লিখেছেন: – ‘দিবাকর দাসের যুগের পরে, কবি ঈশ্বরদাস বলেছিলেন, “বৈশাখের তৃতীয়ায় (এপ্রিল) শ্রীচৈতন্য রাজা প্রতাপরুদ্রের সামনে জগন্নাথের মূর্তিতে চন্দন কাঠের প্রলেপ দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় তিনি হঠাৎ দেবতার মধ্যে অন্তর্হিত হয়ে গেলেন।” (চৈতন্য ভাগবত)।
এখানেও আমরা মহাপ্রভুর জগন্নাথ দেবতার সঙ্গে মিলনের উল্লেখ পাই। কিন্তু মহাপ্রভু বৈশাখের তৃতীয়া তিথিতে (এপ্রিল) অন্তর্ধান করেছিলেন এটা ভুল।
কবিরাজ গোস্বামী স্পষ্টভাবে বলেছেন তিনি ১৪০৭ শকাব্দে (১৪৮৫ খ্রি:) জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৫৩৩ শকাব্দে (১৫৩৩ খ্রি:) অন্তর্ধান করেন। সন্ন্যাসী হওয়ার পর তিনি তেইশ বছর কয়েক মাস বেঁচে ছিলেন। কবি কর্ণপুরও এই বিবরণ তুলে ধরেন। কর্ণপুর লিখেছেন মহাপ্রভু ২৪ বছর বয়সে সন্ন্যাসী হয়ে শ্রীক্ষেত্রে এসেছিলেন; সেখান থেকে তিনি ৩ বছর অন্যান্য স্থানে ভ্রমণ করেছিলেন। বাকি ২০ বছর তিনি শ্রীক্ষেত্রের (পুরী) রথযাত্রায় যোগ দিয়েছিলেন:
মহাপ্রভু পুরো দুই বছর দক্ষিণ ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি গৌড়ে ছয় মাস এবং বৃন্দাবনে ছয় মাস অবস্থান করেছিলেন। সেই কারণেই কর্ণপুর বলেছেন যে তিনি ৩ বছর শ্রীক্ষেত্রের বাইরে ছিলেন এবং অন্যান্য স্থানে ঘুরে বেড়াতেন। ২০ বছর ধরে তিনি রথযাত্রায় যোগ দিয়েছিলেন। যদি তিনি ১৪৫৫ শকাব্দের রথযাত্রায় যোগ না দিতেন তাহলে ২০ বছর ধরে তাঁর পক্ষে রথযাত্রায় যোগ দেওয়া সম্ভব হত না। কবি কর্ণপুর আরও লিখেছেন মহাপ্রভু কয়েকদিন নীলাচলের বাইরে অবস্থান করেছিলেন এবং তারপর ভক্তদের কাছে ফিরেছিলেন। তাঁর উপস্থিতিতে তাদের খুশি করেছিলেন।
আরো কয়েক জায়গায় বলা হয়েছে ১৪৫৫ শকাব্দের রথযাত্রা ছিল মহাপ্রভুর সর্বশেষ রথযাত্রা এবং এটা ছিল ২০তম বছর। কিন্তু কর্ণপুর বলেছিলেন যে প্রভু ৪৭ বছর বেঁচে ছিলেন। প্রভু ১৪০৭ শকাব্দের ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারি) পূর্ণিমা তিথিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। দ্বিতীয়ত, তাঁর বয়স ৪৮ বছর পূর্ণ হয়েছিল। তাই কবি কর্ণপুরের মতে ১৪৫৬ শকাব্দের ( ১৫৩৪ খ্রি:) ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারি) পূর্ণিমার আগে এবং ১৪৫৫ শকাব্দের (১৫৩৩ খ্রি: ) আষাঢ় (জুলাই) মাসে রথযাত্রার পরে প্রভু তাঁর স্বর্গীয় বাসস্থানে গিয়েছিলেন।
উপরের আলোচনা থেকে আমরা বিবেচনা করতে পারি যে বৈশাখ (এপ্রিল) মাসে প্রভুর অন্তর্ধান সম্পর্কে ওড়িয়া কবি শ্রী ঈশ্বর দাস যা লিখেছেন, তা যথার্থ না।
শ্রী লোচনদাস ঠাকুর পরামর্শ দিয়েছেন প্রভুর অন্তর্ধানের সময় শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত মহাকাব্যে তেমনটাই বলা আছে; তাই একে সত্য বলে বিশ্বাস করা যেতে পারে। কর্ণপুর যখন ছোট ছিলেন তখন তিনি রথযাত্রার সময় প্রভুর সঙ্গে দেখা করতে তার বাবার সঙ্গে নীলাচলে যেতেন। প্রভুর অন্তর্ধানের নয় বছর পর ১৪৬৪ শকাব্দে তিনি মহাকাব্য শেষ করেছিলেন। তিনি নরহরি সরকারের কাছ থেকে প্রভু সম্পর্কে অনেক কথা শুনেছিলেন। তাই এই দুই ব্যক্তির বর্ণনা থেকে আমরা সহজেই প্রভুর অন্তর্ধানের সময়টিকে মেনে নিতে পারি।
শ্রী লোচনদাস এবং আরও দুই ওড়িয়া কবি অচ্যুতানন্দ ও শ্রী ঈশ্বরদাসের বিবরণে সকলেই বলেছেন মহাপ্রভু ভগবান জগন্নাথে অন্তর্হিত হয়েছিলেন। কবি কর্ণপুর তাঁর মহাকাব্যে লিখেছেন প্রভু “নিজের আশ্রমে ফিরে গেলেন”। কিন্তু তিনি সেখানে কীভাবে গেলেন তা তিনি বর্ণনা করেননি।
কর্ণপুর কখনও শ্রীচৈতন্যকে নরদেহধারী মানুষ ভাবেননি, ঈশ্বরের অবতার ভেবেছিলেন। তিনি বলেছেন প্রভু নিজস্ব আবাসে ফিরে গিয়েছিলেন। দৃশ্য বা শ্রাব্য কিছু ছাড়া অন্য কিছু আছে এটা সম্ভব নয় অতএব এই অন্তর্ধান মানা যায় না।
উপসংহার:
তাঁর অন্তর্ধানের সময়কাল বাংলায় রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে বাংলার সুলতানি শাসন মুঘলদের কাছে ক্ষমতা হারায়। এই রাজনৈতিক আবহাওয়া তাঁর প্রস্থানকে ঘিরে স্পষ্টতার অভাবের কারণ হতে পারে। তাঁর মৃত্যুর সময়, বাংলা রাজনৈতিকভাবে অস্থির ছিল, বাংলার সুলতানি শাসন ধীরে ধীরে তার ক্ষমতা হারায়, মুঘল বাহিনী তা দখল করে।
বেশিরভাগ বাঙালির দৃঢ় বিশ্বাস শ্রীচৈতন্যকে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের পাণ্ডারা মন্দির প্রাঙ্গণের ভেতরে হত্যা করেছিলেন। ইতিহাস বলে শ্রীচৈতন্য ৪৮ বছর বয়সে পুরীতে মারা যান। তিনি বিকেলের শেষ দিকে জগন্নাথ মন্দিরে প্রার্থনা করার জন্য ঢুকেছিলেন। সূর্যাস্তের সময় মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, মহাপ্রভু তখনও ভেতরে ছিলেন। সেই রাতে পাণ্ডারা হঠাৎ দরজা খুলে ঘোষণা করে যে “ভগবান সমুদ্রের সঙ্গে এক হয়ে গেছেন”।
এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অস্তিত্বের পেছনে কিছু কারণ আছে। তার ঘনিষ্ঠ অনুসারীদের একজনকে শীঘ্রই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার বাকি অনুসারীরা এই পুরো ঘটনা সম্পর্কে সম্পূর্ণ নীরব থাকেন কিন্তু তাতে সন্দেহ যায় না। তার বেশিরভাগ অনুসারী বৃন্দাবনে চলে যান এবং আর কখনও পুরী বা বাংলায় পা রাখেননি। তাদের কিছু ইতিহাসও অদৃশ্য হয়ে যায়।
পাণ্ডারা কেন চৈতন্যকে হত্যা করবে? এর দুটো কারণ সাধারণত উঠে আসে। প্রথমটা হল চৈতন্য আসলে পাণ্ডাদের কর্তৃত্ব মেনে নিতেন না এবং তাঁর অনুসারীদেরও একই কাজ করতে উৎসাহিত করতেন। এটা পাণ্ডাদের মৌলিক অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। এছাড়া পাণ্ডারা এবং অন্যান্য ওড়িয়া ভক্তরা জগন্নাথকে “মহাপ্রভু” বলে ডাকতেন, তাই চৈতন্যের ভক্তরা তাঁকে মহাপ্রভু বলে ডাকুক এটা তাঁরা পছন্দ করতেন না। তাঁরা ভয় পেতেন যে চৈতন্য জগন্নাথের চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন।
দ্বিতীয় কারণ ছিল রাজনৈতিক। চৈতন্যের আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এবং পরবর্তী কালে তার পুত্র নসরত শাহের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। চৈতন্য কলিঙ্গের রাজার সঙ্গে দেখা করেন, তিনিও মহাপ্রভুর প্রতি মুগ্ধ হন। কিন্তু সেই সময়ে বাংলা কলিঙ্গের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল, তাই কলিঙ্গের মন্ত্রী এবং সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা চৈতন্যকে বাংলার সুলতানের গুপ্তচর হিসেবে অভিযুক্ত করেন, কলিঙ্গ রাজাকে যুদ্ধ থেকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। যদিও মনে রাখতে হবে চৈতন্যের মৃত্যুর ২০ বছরেরও বেশি সময় আগে এই ঘটনাটা ঘটেছিল। তাঁর মৃত্যুর সময়, বাংলা রাজনৈতিকভাবে অস্থির ছিল, বাংলার সুলতান ধীরে ধীরে তার ক্ষমতা হারাতে থাকে এবং মুঘল বাহিনী ধীরে ধীরে বাংলা দখল করতে থাকে। যতদূর বলতে পারা যায় চৈতন্য ও তার অনুসারীরা সুলতানের কাছ থেকে আর সেই সুরক্ষা পাননি, তাই তাদের আত্মগোপনে যেতে হয়েছিল। চৈতন্য নিজেও প্রায় ২০ বছর ধরে নবদ্বীপে পা রাখেননি।
সাম্প্রতিক অনেক গবেষণায় উঠে আসছে ভিন্ন তথ্য। শ্রী চৈতন্য দেখেছিলেন এবং অনুধাবন করেছিলেন যে বাংলা তথা সমগ্র ভারতে মুসলিম রাজশক্তি এবং তার পশ্চাৎে ইসলাম তার তরবারির জোরে ও মিথ্যা ভাষণে প্রতারিত করে হিন্দুদের ধর্মান্তরণ ও ভারতে হিন্দু ধর্মের ভিত শিথিল করছে। কিন্তু এই বিষয়ে হিন্দু রাজা ও হিন্দুধর্মরক্ষাকারীদের সঙ্গে মিলিত ভাবে হিন্দুসনাতন ধর্মরক্ষার্থে একটা জোট বাঁধার চেষ্টা করেছিলেন। শ্রী রজত পাল তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন, “ বিজয়নগরের রাজা অচ্যুত রায়ের উদ্যোগে প্রাপ্ত দুটি গ্রামের কথা আমরা ভুলে যাব না। চৈতন্যদেব দক্ষিণ ভারতে বেশ কিছুদিন রইলেন। মহারাষ্ট্রে তুকারামের অভঙ্গর কথাও আমাদের মনে আছে। গুজরাট পর্যন্ত তিনি করেছেন অনেক শিষ্য।
ইতিমধ্যে বাংলায় পাঠান রাজত্ব শেষ হয়ে মুঘল যুগ শুরু হয়েছে। নানা উপসম্প্রদায়ের হাত ধরে সহজিয়া সাধনা ছড়িয়ে পড়েছে নিম্নশ্রেণির ,মানুষদের মধ্যে যেহেতু গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের নানা পদ-কাব্য আমাদের হাতে এসেছে, তাদের কথাই আমরা জানতে পেরেছি। উপসম্প্রদায়ের কড়চাগুলি পুঁথির আকারে থেকে গিয়েছিল আশ্রমে আশ্রমে। সেসব অনেক পরে আমাদের কাছে সামান্য পরিমাণে এসেছে। এখনও অনেক এমন পুঁথি রয়ে গিয়েছে লোকচক্ষুর অন্তরালে।“
কিন্তু শ্রী পালের গ্রন্থটি অনেক তথ্য দিলেও সেগুলি সঠিকভাবে সাজানো নয় এবং যুক্তিগুলো সমবেতভাবে কোনো নির্দিষ্ট ইঙ্গিত দেয় না। তাই প্রয়োজন আরো তথ্য এবং সেই তথ্যের পাহাড় থেকে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসা। সেই কাজটা বাকি রয়ে গেছে।
সুদীপনারায়ণ ঘোষ
আরও পড়ুন: পুস্তক পর্যালোচনা: ব্রিটিশরাজ বনাম বাঘাযতীন লেখক শ্রী অমিত দেবনাথ