স্মৃতিচারণ করা যাক আজকের দিনে। পূর্বে যদিও আমি ছোট খাটো পোস্ট দিয়ে বেদের সংহিতায় উল্লেখিত কৃষ্ণকে অনার্য বলার বিষয়ে খণ্ডন করেছি তথাপি পুনরায় পূর্বের বিষয়গুলো মিলিয়ে আজ লেখার চেষ্টা করব। (বেদের মন্ত্রে কৃষ্ণ)
কৃষ্ণ কালো বর্ণের ছিল দেখে উনি অনার্য ছিলেন বলে অনেকে দাবি তুলেন। তাদের এক্ষেত্রে ভিত্তি হচ্ছে ঋগ্বেদ। কারণ, ঋগ্বেদ এর মন্ত্রভাগ সর্বপ্রাচীন সাহিত্য যা সনাতনীদের নিকট সর্বপ্রাচীন শাস্ত্র হিসেবে মান্য। এক্ষেত্রে, যারা কৃষ্ণকে অনার্য দাবি করেন (আমি পোস্টে ‘বিরোধী পক্ষ’ বলে উল্লেখ করব), উনারা প্রচলিত শাকল সংহিতাকেই শুধু মানেন। যাই হোক, বিরোধী পক্ষ ঋগ্বেদকে প্রাচীন ভিত্তি মানলেও কোন মণ্ডল প্রাচীন সেটা কিন্তু বেশিরভাগই জানে না। ঋগ্বেদ ও আর্য বিষয়ক গবেষক হিসেবে পরিচিত – শ্রীকান্ত গণেশ তালাগেরি, দেখিয়েছেন ঋগ্বেদ (প্রচলিত শাকল শাখা) সংহিতার ২ থেকে ৭ মণ্ডল সবচেয়ে প্রাচীন ও এগুলোকে পরিবার মণ্ডল বলা হয়। এগুলোর মধ্যেও সবচেয়ে প্রাচীন হচ্ছে ষষ্ঠ মণ্ডল। ঋগ্বেদ (শাকল) ৬/৯/১ এ পাওয়া যায় –
“অহশ্চ কৃষ্ণমহরর্জুনং চ বি বর্তেতে রজসী বেদ্যাভিঃ।”
(খণ্ডাংশ)
অনুবাদ: কৃষ্ণবর্ণ রাত্রি এবং শুভ্রবর্ণ’ দিবস জ্ঞানগম্য স্ব স্ব প্রবৃত্তি দ্বারা অখিল জগৎ রঞ্জিত করে নিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে।
প্রথম ও দশম মণ্ডলেও কৃষ্ণবর্ণ রাত্রি দেবীর উল্লেখ পাওয়া যায়। অর্থাৎ, শ্বেত ভিন্ন অন্য বর্ণ তথা কালো বা ধূসর মানেই অনার্য এই বিষয় যেমন ঋগ্বেদের সবচেয়ে পুরাতন ষষ্ঠ মণ্ডল দ্বারা খণ্ডন করা যায় তেমনি প্রথম ও দশম মণ্ডল (দশম মণ্ডলের রাত্রি সূক্ত বিখ্যাত) দ্বারা তথা বিরোধীদের মান্য সামগ্রিক ঋগ্বেদ সংহিতা দ্বারাই খণ্ডিত হয়। এছাড়াও, বিরোধীদের উল্লেখিত ‘অসুর কৃষ্ণ’, যার উল্লেখ ঋগ্বেদ (শাকল) সংহিতা ৮/৯৬/১৩-১৫ এ পাওয়া যায় কিন্তু, উল্লেখিত অসুর কৃষ্ণ ভিন্ন। এমনকি আরেক কৃষ্ণের উল্লেখ পাওয়া যায় মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষি হিসেবে, যার উল্লেখ ঋগ্বেদ (শাকল) সংহিতা ৮/৮৫ সূক্তে রয়েছে। তথাপি, তাদের মান্য করা অসুর কৃষ্ণকে নিয়েও যদি বলা হয় তাহলে বলতে হয় ইতিহাস বিচারে বেদের অসুরগণ মোটেই অনার্য নয়। অনেক দেবতাকেও অসুর বলে সম্বোধন করার কথা পাওয়া যায়, যেমন – ঋগ্বেদ (শাকল) ১/২৪/১৪ তে রয়েছে –
“ক্ষয়ন্নস্মভ্যমসুর প্রচেতা রাজন্নেনাংসি শিশ্রথঃ কৃতানি”
(খণ্ডাংশ)
অনুবাদ: হে অসুর, প্রজ্ঞাশীল, দীপ্তিমান বরুণ! আমাদের রক্ষার জন্য এই কর্মকে নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের কৃত অপরাধকে শিথিল করুন।
এখানে, সায়ণ ভাষ্যে অসুর অর্থে বিঘ্ন বিনাশকারী করা হয়েছে। বেদগ্রন্থমালার নোট অনুযায়ী ঋগ্বেদে অসুর শব্দ ‘দেবতা’ অর্থেও ব্যবহৃত হতে পারে। নিরুক্ত ৩/৮ এ অসুর শব্দের অর্থের প্রতিপাদন করতে বলা হয়েছে – যারা কোন স্থানে স্থির নয় বা সুষ্ঠুভাবে অবস্থিত নয়, যারা কোন স্থান হতে বিতাড়িত (দেবতা দ্বারা অনেকের মতে) তারা অসুর। একই অংশে সুর ও অসুরের উৎপত্তি নিয়ে বলা হয়েছে – ‘প্রজাপতি প্রশস্ত ও অপ্রশস্ত প্রদেশ হতে যথাক্রমে সুর ও অসুরগণের সৃষ্টি করেছেন।’ নিরুক্ত ১০/৩৪ এ রয়েছে, ‘অসু ইতি প্রজ্ঞানম’ অর্থাৎ, অসু শব্দ প্রজ্ঞাবাচক।
আবার ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র দত্ত ঋগ্বেদ সংহিতার টীকায় বলেছেন, ‘আদিম আর্যগণ উপাস্যদেরকে অসুর বা দেব বলতেন। পরে সে আর্যদের মধ্যে একটি বিবাদ ও বিচ্ছেদ হয়ে দুটি দল হল এবং একদলের লোেক অন্য দলের উপাস্যদের নিন্দা করতে লাগল। দত্ত আরও জানালেন দু’দলের একদল প্রাচীন হিন্দু (দত্ত আর্যদের ভারতে আগমণ বিশ্বাস ছিলেন) এবং অন্য দল প্রাচীন ইরানীয়। ইরানীয়দের উপাস্যের নাম ‘অসুর’ এবং তারা হিন্দুদের উপাস্য ‘দেব’ গণকে নিন্দা করতেন এবং হিন্দুদের উপাস্যের নাম ‘দেব’ এবং তারা ‘অসুর’ দের নিন্দা করতেন।’ জরথুস্ট্রবাদ অনুসারী প্রাচীন ইরানীয়দেয়র (পারসিক ও মিডীয়) গ্রন্থ হচ্ছে আবেস্তা, যা পড়লেই ঐতিহাসিক সত্যতা উপলব্ধ হয়। ইতিহাসের বিচারে যেহেতু ভাষা তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ীই আর্য নির্ণয় করা হয়, তাই প্রাচীন ইরানীয় তথা যারা অসুরের উপাসনা করতো তারাও আর্য হিসেবেই প্রমাণিত হলো। অতএব, অসুর মানেই অনার্য এমন ভাবারও কোন কারণ নেই।

মহাভারতের আদি পর্বের ৬২ নং অধ্যায়ে পাওয়া যায় – ‘শূরো নাম যদুশ্রেষ্ঠো বসুদেবপিতাঽভবৎ।১৩০। (খণ্ডাংশ) অর্থাৎ, যদুবংশে শূর নামে বসুদেবের পিতা ছিলেন।’ আবার একই পর্বের ৫৮/১৩৮ এ পাওয়া যাচ্ছে কৃষ্ণ বসুদেব ও দেবকীর গর্ভে জন্ম নেন। পুরাণেও অনুরূপ তথ্য আরও বিস্তারিত পাওয়া যায়। যেহেতু পুরাণ সকলে না মানলেও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাকে মান্যতা দেওয়া হয় তাই মহাভারত থেকেই উল্লেখ করা হলো (গীতা মহাভারতের অংশ)। অতএব, কৃষ্ণ যে যদু বংশীয় সেটা কেউই অস্বীকার করতে পারছে না। যদু বংশ তথা যাদবদের উল্লেখ কিন্তু বেদেই পাওয়া যায় এমনকি তাদের প্রশংসাই পাওয়া যায়। তাও আবার সবচেয়ে প্রাচীন বেদ ঋগ্বেদেই! প্রমাণ দেখা যাক – “হে ইন্দ্র। তুমি শত্রুগণের কম্পন বিধায়ী, তুমি ধূনিকর্তৃক নিরুদ্ধ বারিরাশিকে বেগবতী নদীসকলের ন্যায় প্রবাহিত করিয়েছ। হে বীর। যেকালে তুমি সমূদ্র উত্তীর্ণ হয়েছিলে, তখন সমুদ্র পারে অবস্থিত তুর্ক’শ ও যদুদেরকে সমুদ্র পার করিয়েছিলে।”
– ঋগ্বেদ সংহিতা (প্রচলিত শাকল শাখা), ৬/২০/১২
ইন্দ্র যদু বংশের লোকেদের সমুদ্র পাড়ি দিতে সহায়তা করেছিল অর্থাৎ, ইন্দ্র যদুদের বন্ধু ছিল। ইন্দ্র যদি আর্যদের দেবতা হয় তাহলে অবশ্যই ইন্দ্র, আর্যদেরই সহায়তা করবেন! ঋগ্বেদ সংহিতার (শাকল শাখা) ৯/৬৬/২০ এ পঞ্চজনের উল্লেখ আছে। একই গ্রন্থের ১/১০৮/৮ ও ৮/১০/৫ এ সেই পঞ্চজন হিসেবে যদু, তুর্বশ, অনু, দ্রুহ্যু ও পুরু এই পাঁচটি বংশকেই বুঝাচ্ছে। ইতিহাসবিদগণও এই পাঁচটি বংশকেই প্রাচীন আর্য বংশ হিসেবে মান্যতা দেন। একই গ্রন্থের ৮/১/৩১ এ যদু বংশীয় রাজা ‘আসঙ্গ’ এর প্রতিপত্তি ও দানশীল মনোভাব নিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং ৮/৬/৪৬-৪৮ মন্ত্রের রমেশচন্দ্র দত্তের অনুবাদিত বেদের (আপনাদের কাছে অত্যধিক জনপ্রিয় সংস্করণ যা হরফ প্রকাশনীর) টীকায় বলা হয়েছে – কণ্ব ঋষিগণ যাদবদের পুরোহিত ছিলেন। যদু বংশীয়দের শক্তির পরিচয় দিতে বলা হয়েছে –
‘দূর দেশ হতে অগ্নির মাধ্যমে উগ্রদেব যদু তুর্বশ নামে (রাজর্ষিদের) আবাহন করি। অগ্নি নববাস্ত্ব, দস্যুগণকে পরাজিত করার জন্য, বৃহদ্রথ ও তুর্কীতি নামে (রাজর্ষিদের) আননয়ন করো।’ – ঋগ্বেদ (শাকল), ১/৩৮/১৮
এখানে দস্যু দমনে যদু বংশীয়দের আনয়ন করার প্রসঙ্গ এসেছে, অতএব তারা শক্তিশালী যোদ্ধাও ছিলেন। যদু ও তুর্বশ নামক ব্যক্তির থেকেই এই বংশ সৃষ্টি হয়েছে। মহাভারতের আদি পর্ব ৭১/৯ এ রয়েছে – যযাতি ও দেবযানীর দুই পুত্র হচ্ছে, যদু ও তুর্বশ (পাঠ ভেদ থাকতে পারে)। কৃষ্ণের বংশের লোকজন যে আর্যই ছিল সেটা ত প্রমাণ হয়েই গেল এবার নাহয় বেদে দেবকীনন্দন, দ্বারকাধীশ কালীয় দমনকারী কৃষ্ণের উল্লেখ নিয়ে বলা যাক। সামবেদীয় ছান্দোগ্য উপনিষদ ৩/১৭/৬ এ স্পষ্টতই দেবকীপুত্র কৃষ্ণ হিসেবে উল্লেখ করা আছে। কিন্তু, এখানে আপত্তি উঠে যে, উপনিষদ যেহেতু ব্রাহ্মণের অংশ তাই সেটা বেদ নয়। ব্রাহ্মণগ্রন্থগুলো অনেক পড়ে রচিত হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস বিচারে গ্রহণযোগ্য পণ্ডিতদের জ্যোতিষ বিচার কি বলে দেখা যাক – বেদ রচনার বিশেষ করে ঋগ্বেদ ক্ষেত্রে বাল গঙ্গাধর তিলক মৃগশিরা নক্ষত্রের কালকে ধরেছেন। আর এই নক্ষত্রের সময়কাল ছিল ৪২০০-৩২৮০ খ্রি. পূ.। এই মৃগশিরা কালের বিষয় উল্লেখ ঋগ্বেদে রয়েছে বিধায়, এই বেদ ঐসময়ে রচিত হয়েছে বলে গাণিতিক জ্যোতিষ বিচার দ্বারা তিলক নির্ণয় করেন। কিন্তু, ব্রাহ্মণ গ্রন্থেও এই মৃগশিরা কালের বর্ণনা আছে। গোপথ, কৌষিতকী, শতপথ এবং তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণে উল্লেখ আছে উত্তর ফাল্গুনী নক্ষত্রে অর্থাৎ ফাল্গুনী পূর্ণিমায় বৎসর গণনা আরম্ভ হওয়ার কথা। যেহেতু বৎসর গণনা আরম্ভ হত সূর্যের উত্তরায়ন যাত্রার তারিখ থেকে, সেই কালে সূর্যের উত্তরায়ন হত ফাল্গুনী পূর্ণিমায়। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনায় দেখা যায়, এটি 4000 BC সময়কালীন। তারপর আরেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী ভেঙ্কটেশ বাপুটী কেটকর তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণের ৩/১/১/৫ এর অংশ উল্লেখ করেন, ‘বৃহস্পতি প্রথম উদিত বা দৃশ্যমান হয়ে তিষ্য নক্ষত্রকে অতিক্রম করেছিলেন’ এবং কেটকর হিসেব করে বের করেন এই ঘটনার সময়কাল প্রায় ৪৫০০ খ্রি. পূ.। অতএব, ব্রাহ্মণ গ্রন্থগুলোর প্রচীনতাও অস্বীকার করা যাচ্ছে না। এবার বেদের মন্ত্র ভাগ থেকেই দেবকীনন্দন কৃষ্ণের বিষয় দেখা যাক – “The serpent, the great serpent Ajagara has clarified butter (ghee) in him and (is) poisonless. From his dry (mouth) the rivers (flow). May we attain his fordable place. The serpent, known as Kälika, the possessor of strength of a thousand young elephants; verily he is born in the Yamuna river. He is the carrier of Narayaņa. If there is a fear from the messenger of Kälika, if there is a fear from the Kähklika a particular type of serpent; moving in the area of the birthplace the Kälika becomes poisonless.”
(Rgveda – Ashvalayana Samhita – 7/56/3-5)
এখানে কালীয় দমনের বিষয় উল্লেখ আছে। কালীয় পরাজিত হওয়ার পর নারায়ণকে (যাকে আমরা কৃষ্ণ বলি) বহন করেছিল কালীয়। এই নিয়ে বিস্তারিত কাহিনী আপনারা পুরাণে পাবেন। এবার আপত্তি উঠে যে, বেদে ইতিহাস থাকতে পারে না। কিন্তু, মনুস্মৃতি ১২/৯৭ অনুযায়ী, ‘চারটি বর্ণ, তিন লোক, পৃথক্ পৃথক্ চারটি অশ্রম এবং ভূত, ভবিষ্যৎ ও বর্তমান-এগুলি সব একমাত্র বেদ থেকেই প্রচারিত হয়।’ তাই বলা যায় ভূত বা অতীত বিষয় যেহেতু বেদে থাকতে পারে তাই বেদে ইতিহাস থাকতে পারে। বিরোধীগণ এটার খণ্ডন করতে কোন শ্রুতি প্রমাণ দেখাতে পারে না তাই বেদে ইতিহাস আছে এটাই মান্য। শাস্ত্রের বিচার বাদ দিলেও ইতিহাসবিদগণ কিন্তু বেদে ইতিহাস আছে এমন মেনেই গবেষণা করেছেন, যা প্রত্নতাত্ত্বিক নির্ভর বা বিজ্ঞানভিত্তিক। যাই হোক এরপরের আপত্তি উঠবে উল্লেখিত আশ্বলায়ন শাখা মান্য নয়। কিন্তু, মহর্ষি পতঞ্জলির ব্যাকরণ মহাভাষ্যে আছে – ‘একশতমধ্বর্যুশাখাঃ, সহস্রবর্ত্মা সামবেদঃ, একবিংশতিধা বাহ্বৃচ্যম্, নবধাথর্বণোবেদঃ’ (মহাভাষ্য, পষ্পাহ্নিক)
অর্থাৎ – যজুর্বেদের একশত এক শাখা, সামবেদ সহস্রশাখাযুক্ত, ঋগ্বেদ একবিংশতি শাখাবিশিষ্ট, অথর্ববেদ নয় শাখায় বিভক্ত (১০১+১০০০+২১+৯ = ১১৩১)।
পষ্পাহ্নিকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় অংশে রয়েছে – “নাগেশ ভট্ট ‘স্বাধ্যায়োহধ্যেতব্যঃ’ [তৈত্তিরীয় আরণ্যক ২।১৫/১] এই শ্রুতি-বাক্যের সঙ্গে মহাভাষ্য প্রদর্শিত উক্ত আগম বাক্যের একবাক্যতার প্রতি লক্ষ্য করে এইরূপ ব্যাখা করেছেন-‘স্বাধ্যায়োহধ্যেতব্যঃ’ এই বাক্যের স্বাধ্যায় শব্দের দ্বারা সমগ্র বেদ গৃহীত হয় নাই, কিন্তু এ স্থলে স্বাধ্যায় শব্দের দ্বারা নিজ নিজ শাখারূপ বেদই বুঝতে হবে।” অর্থাৎ, শাখাও যে বেদ সেটাও প্রমাণিত হল।
ইতিহাস বিচারই হোক বা ধর্মীয় বিচার কৃষ্ণকে অনার্য কোনোভাবেই বলা যায় না। অস্বীকার করার ত প্রশ্নই উঠে না বরং অন্ধ বিশ্বাস বাদ দিয়ে সবদিক বিচার করলে কৃষ্ণের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিই পায়।
✍️ উচ্ছ্বাস তালুকদার
তথ্যসূত্র:
১) ঋগ্বেদ সংহিতা, ড. ভীষ্মদত্ত শর্মা (হিন্দি)
২) ঋগ্বেদ সংহিতা, রমেশচন্দ্র দত্ত
৩) বেদগ্রন্থমালা, রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচার
৪) The Rigveda: A Historical Analysis, Shrikant G. Talageri
৫) মহাভারত, হরিদাস সিদ্ধান্ত বাগীশ
৬) ছান্দোগ্য উপনিষদ, স্বামী গম্ভীরানন্দ
৭) নিরুক্ত, অমরেশ্বর ঠাকুর
৮) নিরুক্ত, স্কন্দ স্বামী (সংস্কৃত)
৯) Āśvalāyana Samhitā of The Rgveda, B.B. Chaubey
১০) পতঞ্জলি প্রণীত ব্যাকরণ মহাভাষ্য (পস্পশাহ্নিক), দণ্ডিস্বামী দামোদরাশ্রম
১১) মনুস্মৃতি, মানবেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
১২) সিন্ধু সভ্যতার কথা ও কাহিনী, রজত পাল
বিঃ দ্রঃ আপনাদের মতামত জানাবেন, ভুল পেলে শুধরে দিবেন এবং মতবিরোধ থাকলে খণ্ডন করবেন। অনুমতি ব্যতীত অনুলিপি বর্জনীয়।
সবাইকে জানাই কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা🌸🙏